দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালের নতুন পরিবেশ ও নবাগত ডাক্তারদের সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ রোগীদের।
মোহাম্মদ উল্লাহ্ ভূইয়া (সোহাগ) ঃ
দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালের মুল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় মনে হবে বিলাসবহুল বেসরকারি কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ফুলবাগান বা নার্সারি বললেও ভুল হবেনা। পুরো হাসপাতাল ঝকঝকে-তকতকে। চিরচেনা দুর্গন্ধের বদলে ফুলের সৌন্দর্য হাসপাতালের চারিদিকে। বছরদুয়েক আগেও সরকারি এ হাসপাতাল মানেই ছিল অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উৎকট গন্ধ, ব্যবহারের অনুপযোগী টয়লেট।
চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। সেবার মান নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্টি না থাকলেও বর্তমান পরিবেশ দেখে মানুষের মাঝে অভিযোগ করার কথা ভুলে যায়। অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল নিয়ে রোগীদের যে বিস্তর অভিযোগ দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালে তা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। হাসপাতালের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নবাগত চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিদিন সময়মতো অফিসে আসা থেকে শুরু করে তাদের কর্তব্যপালনে যথাযথ চেষ্টা করেন। আর এর সবকিছুই সম্ভব হয়েছে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তা আহম্মেদ কবির এর কারনে, যিনি নিরলস ভাবে সবকিছু গুছিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে শক্ত হাতে তদারকি করেছেন। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না, সেটাকে বাস্তবে পরিনত করতে সঠিক মানুষের প্রয়োজন হয়।
স্বপ্নকে বাস্তবে রুপদানকারিরা হলেন-কুমিল্লা ০৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এমপি সরকারি হাসপাতালকে উন্নতি করতে উপজেলার সুধি সমাজের ও উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইসচেয়ারম্যান সহ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি, বিভিন্ন ব্যাক্তিদের সাথে আলোচনা করেন। লক্ষ্য হাসপাতালের বেহাল অবস্থা থেকে ফিরিয়ে এনে একটি মডেল হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তোলা, সেবার মান বৃদ্ধি করাসহ সর্বপরি এখান থেকে মানুষ সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি থাকবে সেরকম একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা। মুল ফটকের ভেতরে রাস্তার দুধারে করা হয়েছে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সবরকম ব্যাবস্থা।
দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালের সুন্দর পরিবেশ এবং অসহায় রোগীদের পাশে থাকেন হাসপাতালের সকল চিকিৎসককেরা। কোন গরীব রোগী সরকারি ঔষধ ব্যাতিত ঔষধ কেনার টাকা না থাকলে চিকিৎসকেরা ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের ঔষধ কিনে দেন।
সঠিক তদারকি : সবাই সবকিছু দিলেও তদারকি করার জন্য একজন সঠিক মানুষের প্রয়োজন।দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালের সঠিক পরিচালনা করার জন্য একজন যোগ্য ব্যাক্তিকেই যোগ্য দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি হলেন সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মকর্তা মোঃআহম্মেদ কবির।তিনি যোগদানের পর থেকে তিনি হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। তার নিরলস পরিশ্রম আর সঠিক তদারকিতে হাসপাতালের পরিবেশ হয়েছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। কেবিন গুলো আধুনিক করে গড়ে তোলা হয়েছে এবং কেবিনের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। হাসপাতালের চারিদিকে গড়ে তোলা হয়েছে ফুলের বাগান আর বিভিন্ন ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি।
শুধু দেবিদ্বার উপজেলার মানুষই না, আশপাশের উপজেলার মানুষও আসে দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে। প্রতিদিন বহি:বিভাগে চিকিৎসা নেয় প্রায় হাজার খানেক আর আন্ত:বিভাগে ভর্তি থাকে শতাধিক রোগী। জনবল সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবা দিতে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হলেও তা সমাধানে সদ্য নিয়োগ হলো নতুন আটজন ডাক্তার এবং তাদের চিকিৎসায় সন্তুষ্টি নিয়েই বাড়ি ফেরেন রোগীরা।



কোন মন্তব্য নেই