Header Ads

  • সংবাদ শিরোনাম

    ফটিকছড়িতে যুবলীগ নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি


    ✍ মোঃ সেলিম, ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ

    জীবনের সব স্বাধ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে ওমানে নিজের শ্রম বিক্রি করে জমানো টাকায় খাগড়াছড়িতে করেন নিজের শখের বাগান। স্থানীয় একটি চক্রের জবর দখলের কারণে বাগানটি হারিয়ে নিঃস্ব প্রায় আওয়ামী যুবলীগের ওমান শাখার আহবায়ক তৌহিদুল আলম নামে এক ওমান প্রবাসী।

    কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নিজের জীবনকেও গোছানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন এই প্রবাসী। কিন্তু স্থানীয় বনদস্যু শামসুল আলম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার বিষিয়ে তুলেছে এই অসহায় প্রবাসীর জীবন। কোটি টাকার সম্পদ হারানোর পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্ত্বা নিয়েও চরম উৎকণ্ঠা আর জীবননাশের ভয়ের মধ্যে দিন পার করছেন এই প্রবাসী।

    গাছ কাটা মামলা করায় প্রবাসী তৌহিদুল আলমকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে আসছে বনদস্যু শামসুল আলম।

    এ ব্যাপারে জীবনের নিরাপত্ত্বা চেয়ে পৌরসভার দক্ষিন রাঙ্গামাটিয়ার মৃত আহমদ মিয়ার ছেলে প্রবাসী তৌহিদুল আলম গত ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় একটি জি.ডি (জি.ডি নং-১৫৯৩) করেন। 

    জানা যায়, প্রবাসী তৌহিদুল আলম দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ২০০৬ সালে লক্ষিছড়ি মৌজা হতে দুইভাগে ৮ দশমিক ২৫ একর পাহাড়ী ভূমি ও বাগান ক্রয় করে দীর্ঘদিন যাবৎ আরো গাছপালা রোপন করে ভোগ দখল করে আসছিল। তার প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু শামসুল আলম গং সন্ত্রাসী কায়দায় ২০১৪ সালের শুরুর দিকে তার বাগানে অনাধিকার প্রবেশ করে প্রায় ১০ হাজার বনজ ও ফলজ বৃক্ষাদি কেটে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে।

    পরবর্তীতে তৌহিদুল আলম প্রবাসে থাকাবস্থায় বাগানের তত্ত্বাবধায়ক আমান উল্লাহ মারফত সংবাদ পেয়ে এর প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস মাষ্কাট, সুলতান অব ওমানের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর দেশে এসে তিনি ফটিকছড়ি পৌরসভার ধুরুং রাজঘাটের মৃত সুলতান আহমদের ছেলে শামসুল আলম কে প্রধান আসামী করে একই এলাকার মাহাবুবুল আলমের ছেলে রমজান আলী প্রকাশ চৌধুরী, পার্বত্য এলাকা লক্ষিছড়ির মগাইছড়ি মোস্তফা কামালের ছেলে নুর আলম, একই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে আজিজুলসহ আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা করে লক্ষিছড়ি ও ফটিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

    মামলা দায়েরের পর থেকে ১নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য তৌহিদুল আলমকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী-দমকী দিয়ে আসছে।

    এমনকি মামলা তুলে না নিলে অপহরন করে নিয়ে গিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও প্রদান করে আসছে।

    এছাড়াও চার্জশীটে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ও মামলার বিচারের রায় ঘনিয়ে আসায় সাম্প্রতিক সময়ে ফেইসবুকের একটি ফেইক আইডি থেকেও বিভিন্ন রকম হুমকী-দমকী দিয়ে যাচ্ছে আসামীরা।

    প্রবাসী তৌহিদুল আলম এখন জীবনের নিরাপত্ত্বা ও মামলার আসামীদের কঠোর শাস্তি দাবী করে প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। 
    এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ১নং আসামী শামসুল আলম ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

    অভিযোগের ব্যাপারে লক্ষিছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির বলেন, চার্জশিটে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তার থানা এলাকায় বাদীকে হুমকী-দমকী দেয়া হলে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad