দেবিদ্বার এগারগ্রাম বাজারে সরকারী পরিত্যক্ত ভূমিতে দোকান নির্মান করে দখলের পায়তারা করছে স্থানীয় ভূমি দস্যুরা।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলাস্থ অত্যন্ত জনবহুল এবং সুনাম ধন্য এগারগ্রাম বাজার। বাজারের পূর্বপার্শ্বে রতন শীল(সংখ্যালঘু) এর বাড়ী সংলগ্ন একটি সরকারী পরিত্যক্ত ভূমি রয়েছে। যাহার দাগ নং- ২৩২২, মুগসাইর মৌজা। এই দাগে মোট (১৩) তেরো শতাংশ ভূমি। তন্মধ্যে ৩৭১নং বি,এস খতিয়ান মূলে (৬) ছয় শতাংশ ভূমির প্রকৃত মালিক "সংকর" গং এবং বাকী (৭) সাত শতাংশ পরিত্যক্ত ভূমি দির্ঘকাল যাবৎ বাজারের এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ির পানি নিষ্কাশন নালা হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বর্তমানে উক্ত সরকারী পরিত্যক্ত ভূমিতে দোকান নির্মান করে দখলের পায়তারা করছে স্থানীয় ভূমিদস্যু "সংকর" গং।
খুজ নিয়ে জানা যায় পূর্বকাল থেকে এই পরিত্যক্ত জায়গাটি এগারগ্রাম বাজার এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ির পানি নিষ্কাশন নালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। গত ২০১৮ সালের মাঝা মাঝি সময়ে নালাটি স্থানিয় ভূমিদস্যুদের নজরে পরে। এবং ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ভূমিদস্যুরা নালাটি ড্রেজারের মাধ্যমে ভরাট শুরু করলে পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিক সংখ্যালঘু "রতন চন্দ্র শীল" বিষয়টি স্থানিয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে জানালে তাহারা ভরাট কাজ বন্ধ রাখার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু ভূমি দস্যুরা তাহাদের কথা অমান্য করিয়া রাতের আঁধারে উক্ত নালাটি ভরাট প্রকৃয়া চলমান রাখে। পরে রতন শীল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নিকট নালাটি ভরাট বন্ধ করতে লিখিত অনুরুধ জানায়। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবীন্দ্র চাকমা'র নির্দেশে ভরাট কাজ বন্ধ করে।
আরও জানা যায়, ভূমিদস্যুরা উক্ত পরিত্যক্ত ভূমি/পানি নিষ্কাশন নালাটি দখল করে দোকান ঘর নির্মানের জন্য পুনরায় পায়তারা শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে সংখ্যালঘু রতন শীলের স্ত্রী রিনা রানী রায় গত ৩১/১২/২০১৯ইং তারিখে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ভূমিদস্যু সংকর সূত্রধর এর বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে সরকারী পরিত্যক্ত ভূমি দখল এর অভিযোগ করে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দ্বায়িত্ব ভার অর্পন করেন। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নরেন্দ্র দেবনাথ উপজেলা সার্ভেয়ার নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন।
ইউসুফপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নরেন্দ্র দেবনাথ এর সাথে আলাপ করে জানা যায় উক্ত দাগে'র (১৩) তেরো শতাংশ ভূমির মধ্যে (৬) ছয় শতাংশ ভূমি পার্শ্ববর্তী সংকর গং এর, এবং বাকী (৭) সাত শতাংশ ভূমির মালিকানার কোন কাগজ পত্র কেউ উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি জানান রাস্তার পার্শ্বের এই জায়গাটির কেউ কোন মালিকানার কাগজ পত্র উপস্থাপন করতে পারেনি বিধায় জায়গাটি সরকারী পরিত্যক্ত সম্পত্তির আওতায় পরে। এই জায়গাটি যেনো কেউ ব্যক্তিগত ভাবে দখল করতে না পারে এ বিষয়ে স্থানিয় মেম্বার এবং গ্রাম পুলিশকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান জায়গাটি সরকারী তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মহোদয়ার সাথে পরামর্শ করছি।
পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিক সংখ্যালঘু রতন চন্দ্র শীল বলেন, আমি গরীব অর্থহীন অসহায় মানুষ, সেলুনে কাজ করে অনেক কস্টে সংসার চালাই। ওই জায়গাটির পার্শ্বে একমাত্র সম্বল (৪) চার শতাংশ জায়গায় আমার বাড়ি। সরকারী পরিত্যক্ত যায়গাটি দির্ঘকাল যাবৎ নালা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই নালা দিয়ে আমাদের বাড়ির এবং বাজারের পানি সরবরাহ হতো। এবং আমরা রাস্তায় আসতে এই জায়গাটি ব্যবহার করে আসছি। সংকর গং অন্যায় অত্যাচারী পরধন লোভী ও খারপ প্রকৃতির লোক। তারা নিজেদের একক সুবিধা ভোগ দখলের সুবিধার্থে অন্যান্য আশে পার্শ্বের সকলের সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও লোক ভারা করে দির্ঘদিন যাবৎ জায়গাটি দখল করে দোকান ঘর নির্মান করার জন্য পায়তারা করছে। যার ফলে আশে পার্শ্বে বসবাস রত পরিবার বর্গের ও জনগনের চলাচলের ব্যপক সমস্যা সৃষ্টি হবে। গত ২৫/০১/২০২০ তারিখ উক্ত সরকারী পরিত্যক্ত ভূমি জোরপূর্বক দখল করে দোকান ঘর তোলার জন্য সংকর গংরা সেই ভূমিতে থাকা তিনটি গাছ কাটিয়া ফেলে। আমরা বাধা দিলে আমাদেরকে মারিয়া ফেলার হুমকী দেয়। কোন উপায় না দেখে আমরা বিষয়টি থানায় অবগত করতে গেলে খবর পেয়ে সংকর গং কাটা গাছগুলি তরিৎ সরিয়ে ফেলে, কাটা গাছের গুড়ি গুলো মাটি দিয়ে ঢেকে দেয় এবং বাকী গাছগুলো কাটা বন্ধ রাখে। তিনি আরও বলেন উক্ত জায়গাটিতে দোকান ঘর নির্মান করে দখল করার জন্য ভূমিদস্যু সংকর গং দের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন ওই সরকারী পরিত্যক্ত জায়গাটি আমার বাড়ির সাম। জনস্বার্থে এই জায়গাটি উন্মোক্ত থাক এটাই আমার দাবী


কোন মন্তব্য নেই