দেবীদ্বারে করোনা আতঙ্কে ঘরবন্দী নয়,- বাহিরমূখী
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার /
সম্প্রতি কোভি-১৯ করোনা ভাইরাসের হানায় যখন সারা বিশ্ব মৃত্যুকূপে পরিনত, তখন বাংলাদেশে তার ভয়াবহতা বৃদ্ধির আশংকায় সচেতন মানুষ কিন্তু সাধারন মানুষ তা কোন ভাবেই আমলে নিচ্ছেন না। আতঙ্কে তাড়া করার বিষয়টি সবার মুখে মুখ থাকলেও বাস্তবে লক ডাউন মানছেননা অনেকেই। ঘরমূখী থাকার চেয়ে ওরা ঘরের বাহিরে অবস্থানকেই বেশী গুরুত্ব মনে করেন। এছাড়া ছেলে- মেয়েরা গ্রামের মাঠ ও খোলা জমিগুলোতে নানা খেলাধূলায় মেতে উঠেছে।
হাট-বাজার, দোকানপাঠ, পাড়া- মহল্লায় সর্বত্রই লোক সমাগম আর আড্ডা কোন ভাইবেই কমছেনা। তবে অধিকাংশ মানুষের হাতে মোবাইল ফোন, তারা সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে করোনার ভয়াবহতা খুঁজছেন, আড্ডায় প্রধান আলোচ্য বিষয় করোনা কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তায় যে ঘরমূখী হওয়া প্রয়োজন সেই চেতনাটা উপলব্ধী না হলেও একে অপরকে উপদেশ প্রদানকালে কারোর কোন ঘাটতিই দেখা যাচ্ছেনা। কেউ কেউ করোনা কি তা বুঝেনই না, আবার কেউ কেউ মনে করেন হায়াত- মউত- রিজিক দাতা আল্লাহ, বালা মুছিবত দাতা এবং তার থেকে রক্ষা করার মালিকও আল্লাহ, যার যতদিন হায়াত আছে এবং যার মউত যেভাবে হওয়ার সে সেভাবেই মরতে হবে। যার মৃত্যু যখন হবার হবেই এক সেকেন্ড আগে বা পরে মরার কোন সুযোগ নেই। বান্দার কল্যাণে আল্লাহ সবসময় সতর্ক।
গত রোববার দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সরকার’র জানাযায়, ইমাম সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের অনুরোধে জানাযায় সারিবদ্ধভাবে দাড়ানো মুসুল্লিদের দূরত্ব বজায় রেখে দাড়াবার অনুরোধ করলেও কেউ অধিকাংশ মুসুল্লি তা মানতে রাজি নন। জবাবে তারা জানান, আল্লাহ রোগবালাই দিলে দূরত্বে আটকে তাকবেনা। নামাজ পড়ান। এসময় এলাকার যুব সম্প্রদায়ের পক্ষে তাইম সরকার সকল মুসুল্লিদের মাঝে মাক্স বিতরণ করলেও অধিকাংশ মুসুল্লি মাক্স গ্রহন করে তা পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে দেখা যায়।
স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনা সদস্যরা হ্যান্ড মাইকে সচেতনতার বাণী ছড়িয়ে যাচ্ছেন কিন্তু মানুষ সেটা আমলে নিচ্ছেননা। স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনা সদস্যরা যতক্ষন মাঠে থাকবেন ততক্ষন হাট-বাজার, সিএনজি ষ্ট্যাশন থাকে ফাঁকা, চলে গেলেই ফাঁকা ঢেকে যায় লোকিয়ে থাকা মানুষের ঢলে। কঠোর অবস্থানে যেতে হলে লাঠিপেটা, জেল-জরিমানার বিকল্প নেই। সেখানেও ঘটে বিপত্তি। মানবাধিকার লংঘনে অভিযান পরিচালনাকারীদের পড়তে হয় রোষানলে। করোনা ঠেকাতে কঠোর না হলে দমানোও সম্ভব নয়।
এব্যপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদী ব্যবসায়ি বলেন, প্রতিদিন ৩/৪জন পুলিশ বাঁশি আর লাঠি হাতে সকাল থেকে মাঠে থাকলেই লোক সমাগমের কোন সুযোগ থাকেনা। হঠাৎ অভিযান যতক্ষন চলে ততক্ষনই, তার পর পূর্বের অবস্থানে চলে আসে।
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার,
০১৮১৯৮৪৪১৮২,
০৬/০৪/২০২০ইং।


কোন মন্তব্য নেই