একজন সুবিধা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধার ফরিয়াদ - ভোরের কুমিল্লা
নাহিদ ইসলাম::
মুক্তিযুদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান।দেশমাত্রীকার টানে জীবনবাজী রেখে মরণপণ যুদ্ধ করে স্বাধীন সার্বভৌম রক্ষা করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। আজ মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকা ২ টি খাতায় বিভক্ত।একটি জীবিত খাতা আরেকটি মৃত্যু খাতা। অল্পসময়ের ব্যবধানে শুধু ১টি খাতা থাকবে।আমি ১ সুবিধাবঞ্চিত প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা।আমার নাম মোঃ সহিদুল ইসলাম (৬৬),মরহুম পিতা মোঃ আলফাজ উদ্দিন হাওলাদার এর বড় ছেলে।গ্রা+পোস্টঃ ভরসাকাঠি,বরিশাল।আমি ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত থুবা কেম্প তথা বীরভূমে ট্রেনিং নেই।আমার ভারতের নাম্বার ২৫৬৩/৭১।অতঃপর বাংলাদেশে এসে নবম সেক্টরের এম এ জলিলের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।সর্বশেষ বরিশাল জেলার রহমতপুর কেম্প হইতে রিলিজ নেই।রিলিজ অর্ডার নাম্বার ৩৭০ তাং ২৭/০১/১৯৭২ ইং।আমি মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালে শেরেবাংলা কলেজে থেকে পড়াশুনা শেষ করে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত হই।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত আপনজন আব্দুর রব সেনিয়াবাদ এর ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেনিয়াবাদ (ঝিল্লু) বরিশালের বিশিষ্ট সাংবাদিক এর হাত ধরে সাংবাদিকতা আরম্ভ করি।অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা
বিরোধী চক্ত নির্মমভাবে তাঁর পরিবারবর্গের ২২ জনকে হত্যা করে। এ সময় শহীদ হন আমার শিক্ষাগুরু শহীদ সেনিয়াবাদ (ঝিল্লু)। আমি ১৯৭৩ সাল থেকেই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করি।১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দৈনিক ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক চৌকশ পত্রিকায় কাজ করি।২০০১ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সরকারি মিডিয়াভুক্ত দৈনিক দেশ পত্রিকায় যোগদান করি।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলাম।বর্তমানে মফস্বল সম্পাদকের পদে
কর্মরত আছি এবং সাপ্তাহিক নতুন বাংলা খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত আছি ।১৯৯৬-৯৭ সালে কেরাণীগঞ্জের কারু শিল্পি মাখনলাল কর্মকার নির্মাণ করেন ৪২ কেজি ওজনের পিতল নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য।তৎতালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমার পিতা সহিদুল ইসলাম সরাসরি ১টি খোলা চিঠি প্রদান করেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আমার পিতাকে ১টি চিঠি পাঠান।চিঠিতে উল্লেখ করেন-ধানমন্ডির ৩২ নং ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউবেটর সিদ্দিকুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করার জন্য।ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০০৫ সালে উজিরপুর উপজেলা বাছাইতে টিএনও সহ ৫ জনের স্বাক্ষরিত বইতে আমার নাম্বার ১৬২। কিন্তু তৎকালীন বিএনপির এমপি খাতাটি ক্ষতবিক্ষত করে নিজস্ব লোকদের মুক্তিযোদ্ধা বানান। বর্তমানে আমি ব্রেইন স্ট্রোক করে বার্ধক্য জনিত অবস্থায় বৃদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদেয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার নামটি মুক্তিযোদ্ধার জীবিত খাতায় যেন স্থান পায় এটাই আমার শেষ চাওয়া।



কোন মন্তব্য নেই