আহাম্মদ প্যাদার গয়না - বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সহিদুল ইসলাম
১৯৬৫ সালে এই নৌযানটি বিনা যন্ত্রে নৌপথে চলাচল করতো। গৌরনদী হইতে বামরাইল জয়শ্রী হাশেম শিকদারের দোকান হইয়া পৌড়া বাড়ির ঘাট, মোহাম্মদ নদু হাওলাদারের ঘাট হইয়া,বুদি গাটা হইয়া সন্ধ্যা নদীতে এবং সুগন্ধ্যা নদীতে পারি জমাত। ভাড়া ছিল জন প্রতি আট আনা। রাত্র ৭-৮ টার উদ্দেশে বরিশালের দিকে রওনা হইত এবং সকাল ৭-৮ টার মধ্যে বরিশালে পৌছাইত। আমি মোঃ সহিদুল ইসলাম। আমার নানার সাথে বহুবার নদু হাওলাদারের ঘাট হইয়া বরিশালে যাবার সুযোগ পেয়েছি। সর্বশেষ ধামুড়া থেকে এই গয়নায় চড়ে ১৯৭১ সালে ধামুড়া হয়ে ফরিদপুর, যশোর হইয়া মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ির পাশ দিয়া কপোতাক্ষ নদ দিয়া ভারতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল কিন্তু কপোতাক্ষের পাড়ে গিয়া বেনাপোল পর্যন্ত পায়ে হেটে ইছামতী নদী গোল পাতার নৌকায় পার হয়ে ভারতের চব্বিশ পরগণায় জীবন মরণ ঝুঁকি নিয়া পায়ে হেঁটে পৌঁছেছিলাম। দীর্ঘ সময় চলার পথে ৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বরিশাল পাক হানাদার পাক হানাদার মুক্ত হয় এবং আহাম্মদ প্যাদার গয়নাটি সেই থেকে বিলুপ্ত হইল। সেই বরিশালের বাইরোডে ডিজিটাল যান্ত্রিক যুগে ভাড়া ৪০ টাকা। আহাম্মদ প্যাদার সেই হারিয়ে যাওয়া গয়নায় বিনোদন ছিল,বাজনা ছিল, জারি গান, সারি গান, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, পল্লিগীতি সারারাত চলত। এখন আমার বয়স ছিষট্টি বছর। হারিয়ে গেছে গয়নার কাহিনী হারিয়ে গেছে আহাম্মদ প্যাদার গয়না হারিয়ে গেছে আমার নানা মরহুম মোবারক আলী।



কোন মন্তব্য নেই