দেবিদ্বারে এক দরীদ্র পিতা ফরিদ মিয়ার মেয়ের যৌতুকের দাবি পরিশোধ করতে পারেনি। তাই তার মেয়ে শাহিনা আক্তার (২৭) কে দুটি শিশু সন্তান নিয়ে স্বামী সংসার ছেড়ে এখন থাকতে হচ্ছে বাবার বাড়িতে। ফলে শাহিনা আক্তার অন্যেত্র কাজ করে তার সন্তানদের নিয়ে পিতার বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিন ইউনিয়নের মশিকাড়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে শাহিনা আক্তার এর সাথে একই এলাকার বল্লভপুর গ্রামের মৃত সুবল আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম এর সাথে দুই পরিবারের আলোচনার ভিত্তিতে তাদের বিয়ে হয়। এরমধ্যে তাদের সংসারে দু’সন্তান আসে।
একপর্যায়ে সাইফুল মাদকাসক্ত হয়ে পরে এবং একাধিক বিয়ে করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং গন্যমান্যরা বেশ কয়েকবার বিচার-সালিশি করেন। সালিশিতে ঘর সংসার করার কথা বলে গেলেও পরে বাড়ি গিয়ে শাহিনা আক্তার কে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। শাহিনার কাছে ব্যবসা করার জন্য ৯০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। ওই যৌতুকের টাকা পরিশোধ না করায় তার উপর শুরু হয় নির্যাতন।
সাইফুল অন্য নাম ব্যবহার করে মুরাদনগরের কাশিমপুরে বিয়ে করে ওখানেই বেশী সময় কাটান,বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে কাশিমপুরে জমি ক্রয় করেছেন। এখন শাহিনার কাছেতো আসেইনা এমনকি তাদের সন্তানদের খোজ খবরও লালন পালনের জন্য টাকা পয়সা দেয়না।
এ অবস্থায় যৌতুকের টাকা পরিশোধ না করলে শাহিনা আক্তারকে তালাক প্রদান করা হবে বলেও হুমকি প্রদান করে আসছে সাইফুল। ফলে বাধ্য হয়ে শাহিনা আক্তার মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়। মামলা করার পর থেকে সাইফুল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে। শাহিনা আক্তার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সে সন্তানদের নিয়ে স্বামির সংসারেই থাকতে চায়।
কোন মন্তব্য নেই