মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নিয়ে সোনারগাঁয়ে বিতর্ক।
সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
রাজনীতির মাঠে হঠাৎ উত্তাপ ছড়ানো সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এতদিন অন্তরালে থাকলেও গেলো মাসে ডাকসুর ভিপি নুরের উপর হামলা এবং ডাকসু কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে আলোচনায় আসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক এ সংগঠনটি।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হলেও সংগঠনটি বর্তমান রাজনীতিতে মুলধারার ছাত্ররা জনীতির বাইরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আলোচনায় উঠে আসে।সম্প্রতি সেই সংগঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে সোনারগাঁয়ে। থানা কমিটির পর গঠন করা হচ্ছে একের পর এক ইউনিয়ন কমিটি। কিন্তু এই সংগঠনের বৈধতা এবং গঠিত কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাজনীতিতে সক্রিয়রা এটিকে ভুইফোর এবং মুক্তিযুদ্ধের নাম বিক্রি করে সুবিধাবাদীদের সংগঠন বলে আখ্যা দিচ্ছে।
সোনারগাঁয়ের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনীতিবিদরাও সংগঠনটিকে বেশি ভালোভাবে নিচ্ছেনা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামক সংগঠনে সোনারগাঁ থেকে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পদধারী বেশিরভাগ নেতাকর্মীর পরিবারের কোন মুক্তিযোদ্ধা নেই। সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ বেশিরভাগ নেতাই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ নয়। এমনকি তাদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডও উল্লেখ করার মতো নয়।
উপরন্তু এই সংগঠনের কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে সোনারগাঁয়ের একজন কেন্দ্রীয় নেতা টাকার বিনিময়ে কমিটি অনুমোদন করিয়ে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে সোনারগাঁ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সাবেক কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, গনতন্ত্র বহির্ভূত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের কমিটি এনে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা নিয়ে খেলা করছে। যাদের পরিবারে কোন মুক্তিযোদ্ধা নেই তারা কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবে নিজের অবস্থান ভারি করতে একদল ক্ষমতা লোভী নিজের আখের গোছানো জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ইমেজ ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে কমিটি কমিটি খেলায় মেতে উঠেছে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার সোনারগাঁ শাখার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গণি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের কোন সংগঠনকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কোনো অনুমতি দেয় নাই। তাদের কোন ভিত্তি নাই। তারা ভুঁয়া সংগঠন। তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দিন। তাদেরকে আটক করুন। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সোনারগাঁ শাখার সভাপতি সোনিয়া আক্তার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের সংগঠনের কোন ভ্যালু নাই, এর কোন ভিত্তি নাই। সেজন্য এই সংগঠনে কে বা কারা সভাপতি হচ্ছে বা সাধারণ সম্পাদক হচ্ছে সেটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যাথাও নেই। এটা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় একটি সংগঠন এবং দলকে নিয়ে ব্যবসা করার একটা ফন্দি এঁটেছে তারা।
আমরা মুক্তিযুদ্ধের সন্তান সংগঠনের সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সংগঠন হচ্ছে – বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামক সংগঠনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নাই। সরকার তা গৃহীত করেননি। এখন সোনারগাঁ থানায় তারা পদ পদবী বিক্রির জন্য কমিটি করলে বা ইউনিয়নগুলোতে কমিটি করলে সেটা আমাদের কিছু যায় আসে না।
তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে কোনো দল বা সংগঠন করা হলে সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কোনো দল বা সংগঠন হতে পারে না। তা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বারদী ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের পরিবারের কেউ মুক্তিযোদ্ধা নাই। এবং বারদী ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের অন্যান্য কারোরই পরিবার মুক্তিযোদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না। সোনারগাঁও উপজেলা কমিটির সভাপতির দাদা মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু সাধারণ সম্পাদকের পরিবারের কেউ মুক্তিযোদ্ধা নাই ।



কোন মন্তব্য নেই