Header Ads

  • সংবাদ শিরোনাম

    কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের ত্রী-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত।



    ✍ সাংবাদিক এম.জে.এ মামুন।

    ৯/১২/২০১৯ইং সোমবার চান্দিনা মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ত্রী-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

    কুমিল্লা উত্তরের ৭টি উপজেলা ও ৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তর জেলা। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে সারা দেশের মত কুমিল্লা উত্তর জেলা এবং এ জেলার অধীনে সব উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির কাউন্সিল সম্পন্ন করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসলেও অধিকাংশ উপজেলা ও ইউয়িনের কমিটি গঠন কিংবা অনুমোদন না হওয়ায় উপজেলার আগেই কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশনায় ৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ এর সম্মেলন হয়েছে।

    সম্মেলনকে ঘিরে গত এক মাস জুুুরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছিল।  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলা গেট থেকে সম্মেলনস্থল চান্দিনা মহিলা কলেজ পর্যন্ত শতাধিক ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ এর মাধ্যমে চান্দিনা এক নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছিল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে অনেকেই কেন্দ্রীয়য় আওয়ামীলীগ এর কাছে লবিং-গ্রুপিং দৌড়ঝাপ করেছেন।

     সম্মেলনে প্রায় ২০০ জনকে কাউন্সিলর ও প্রায় দুই হাজার জনকে ডেলিগেট চূড়ান্ত করা হয়। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আব্দুল আউয়াল সরকারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এম. হুমায়ূম মাহমুদের সঞ্চালনায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এড. নিজামুল হক, সাংগঠনিক প্রতিবেদন পাঠ করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার।সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। এতে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাড. আবদুল মতিন খসরু এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ এবং ৭ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত উত্তর জেলার ৫ টি আসনের সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সম্মেলনের প্রধান অতিথি শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেন বিশ্বের কোন দেশেই স্বাধীনতার পক্ষে বিপক্ষের দুই শক্তি নেই , বাংলাদেশেও স্বাধীনতার বিপক্ষের বলতে কোন শক্তি থাকতে পারবে না। 

    এসময় তিনি আরও বলেন, জিয়া-মোস্তাকই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মেজর জিয়াউর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জিয়া বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না। তার জন্ম পাকিস্তানে। তার বাবা-মায়ের কবরও পাকিস্তানে। তিনি পাকিস্তানের ঠিকানাতেই সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। আর যুদ্ধ করেছেন পাকিস্তানের স্পাই’ হয়ে।’ সোমবার চান্দিনা মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে খুনের ঘটনার সাথে জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত ছিলেন। আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তাহলে অন্যান্য খুনিদের মতো তারও ফাঁসি হতো। মৃত মানুষের বিচার হয় না। এজন্য জিয়া ও মোস্তাকদের বিচার হয়নি। বেঁচে থাকলে তাদেরও বিচার হতো।’ ৭১’র ৫ মে মেজর আসলাম বেগ চিঠি দিয়ে জিয়াকে লিখেন- ‘তোমার স্ত্রী ও সন্তানদের কোন চিন্তা করো না, তোমার কর্মকান্ডে আমরা খুশি। তোমাকে নতুন কাজ দেওয়া হবে। তুমি মেজর জলিল থেকে সাবধান থেকো’।ওই চিঠির মানে কি দাঁড়ায়? তিনি স্পাইং করতেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের খবরাখবর তিনি পাকিস্তানে পাঠাচ্ছিলেন।

    সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেন, আদালতে বিএনপির আইনজীবিদের হট্টগোল নজির বিহীন ঘটনা। শুধু বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর কোন দেশেই প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এমন হট্টগোলের কোন নজির নেই।

    অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া এমপি, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এমপি, সেলিমা আহমাদ মেরী এমপি, রাজি মোহাম্মদ ফখরুল এমপি, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মু. রুহুল আমিন প্রমুখ।

    এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম সিআইপি, চান্দিনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তপন বকসী, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও এফবিসিসিআই এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাকিম আশরাফ টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মহিউদ্দিন আহমেদ আলম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ও চান্দিনা পৌর মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক মো. বাহার উদ্দিন বাহার, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু কাউছার অনিক, বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

    এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শেখ সেলিম এমপি। প্রথম অধিবেশন শেষে দুপুরের খাবারের বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর দ্বিতীয় অধিবেশন আর হয়নি। নেতা কর্মিরা ঐক্য না থাকা এবং ৭ উপজেলার কাউন্সিলর তালিকা আপডেট না থাকায়  কুমিল্লা উঃ জেলার সম্মেলনে কমিটি ঘোষিত হয়নি।দলিয় সভানেত্রীর সাথে কথা বলে কাকে ক্যাপ্টেন বনাবেন পরে যানিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধান অতিথি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। কোন কমিটি ঘোষণা ছাড়াই সম্মেলন স্থল ত্যাগ করেণ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পরে রাত আটটায় সকল জল্পনা কল্পনার অবসান করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ম.রুহুল আমিনকে সভাপতি এবং যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রোশন আলী মাস্টারকে সাধারণ সম্পাদক করে শিঘ্রই পূর্নাঙ্গ কমিটি করার জন্য কেন্দ্রথেকে নির্দেশ দিয়েছেন।এই ঘোষনার মাধ্যমে মাঠের ত্যাগী, পরিশ্রমী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad