Header Ads

  • সংবাদ শিরোনাম

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের তর্ত্তিপুর শ্মশানে মাকরী সপ্তমী মহাপূর্ণ স্নান উপলক্ষ্যে হিন্দু ধর্মাম্মবলীদের মিলন মেলা চলছে

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টাফ রিপোর্টার নয়ন ঘোষ:

    প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও শনিবার শিবগঞ্জ পৌর এলাকার তর্ত্তিপুর শ্মশানে মাকরী সপ্তমী মহাপূর্ণ স্নান উপলক্ষ্যে হিন্দু ধর্মাম্মবলীদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর আবহাওয়া ভাল এবং পরিবেশ অনুক’লে থাকায় ব্যপক ভক্তদের আগমন সকাল থেকেই আরম্ভ হয়েছে।

    সারাদেশের দুরদুরান্ত থেকে অন্তত লক্ষাধিক হিন্দু ধর্মাম্মবলীরা পূর্ণ লাভের আশায় পবিত্র গঙ্গার পানিতে এ দিনে সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্নান করে করে থাকে। হিন্দুদের এ গনজমায়েত কে উদ্দেশ্য করে ঘাট এলাকায় এবছরও ৩ দিনব্যাপি গড়ে উঠেছে মেলা।

    জানা গেছে, হিন্দু শাস্ত্র মতে ভগীরত গঙ্গা নদীর জল প্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশে আশার সময় তর্ত্তিপুর ঘাট এলাকায় শ্মশানের পাশে পৌছালে নিম গাছের নীচে জাহ্নবীমনির আশ্রম থেকে তাদের দেবতা জাহ্নবীমনি গঙ্গার জল ভূলবশতঃ পান করে ফেলে। এতে ভগীরত ক্ষুব্ধ হলে জাহ্নবীমনি তার জান কেটে সেই জল বের করে দেয় এবং গঙ্গা মুক্ত হয়। সেই থেকে গঙ্গার এই জল প্রবাহ বলে হিন্দু ধর্মাম্মবলীরা বিশ্বাস করে। আর এই উপলক্ষ্যে এই দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূর্ণ লাভের আশায় হিন্দু ধর্মাম্মবলীরা জমায়েত হন। স্নান শেষে অধিকাংশ ভক্ত দই চিড়া ভোজ খেয়ে গঙ্গার জল সাথে নিয়ে নিজ নিজ বাড়ীতে ফিরে যান। মেলায় কির্তন, গীতা পাঠ ও ধর্ম সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এদিকে এই গঙ্গাস্নান উপলক্ষ্যে তর্ত্তিপুর ঘাট এলাকায় বৃহৎ ৩ দিন ব্যাপি একটি মেলা বসে থাকে। এবছরও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। মেলায় হিন্দুদের শাখা, সিঁদুর, খাড়–, শঙ্ক, বিভিন্ন দেবতার ছবি সহ পোষ্টার, বই, গীতা, পুঞ্জিকা, কাঠের তৈরী প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র, গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার যোগ্য বিভিন্ন জিনিসপত্র, মিষ্টির দোকান ও হোটেল, কসমেটিক্স দোকান সহ হরেক রকম দোকান মেলা উপলক্ষ্যে তর্ত্তিপুর ঘাট এলাকায় বসে থাকে।

    তবে এবছর সরকার পাগলা নদীটি খনন করায় নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।আর এ কারনে এবার ভক্তদের সমাগম বেড়েছে। আয়োজকদের ধারনা এবছর ২ লক্ষাধিক ভক্তদের সমাগম হয়েছে।

    অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মেলা উপলক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা লক্ষ্য করা গেছে।

    এ ব্যাপারে তর্ত্তিপুর মেলা ও মহাশ্বশান কমিটির সহসভাপতি শ্রী প্রদীপ কুমার বড়গড়িয়া জানান, 
    এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম তীর্থস্থান হওয়ায় রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়াসহ অন্যান্য জেলা থেকে এখানে লোক সমাগম ঘটে। পৌরাণিক যুগ থেকে এখানে এই উৎসব চলে আসছে ।কিন্তু ঘাট এলাকায় আসার রাস্তাটি সরু ও খারাপ হওয়ায় ভক্তদের আসতে কষ্ট হয়।তাই তিনি রাস্তাটি বড় এবং পাকা করার দাবী জানান। বলে তারা জানান।

    অন্যদিকে তর্তিপুর মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল ত্রিবেদী জানান, এবছর নদী খননের কারনে নদীতে পর্যাপ্ত জল থাকায় ভক্তদের আগমন ২ লক্ষাধিক পার হয়ে গেছে।এছাড়াও এবছর প্রশাসনের ব্যপক প্রস্তুতি থাকায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad