Header Ads

  • সংবাদ শিরোনাম

    ঘুষ দাবি ৮০ হাজার, না দিলে জরিমানা ১০ লক্ষ টাকা

    স্টাফ রিপোর্টার,সৌরাব আলী। 

    পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক গ্রাহককে সংযোগ বিচ্ছিন্নের ফাঁদে ফেলে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। তা না দিলে ১০ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি জেল খাটানোর হুমকি দেয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শিবগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মো. গোলাম মর্তুজার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এনেছেন গ্রাহক মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও বেশ কিছু গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে আলোচিত কর্মকতার বিরুদ্ধে।

    সূত্র জানায়, অভিযোগকারী মিটার গ্রাহক মো. জাহাঙ্গীর আলম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কামাত গ্রামের মৃত মো. জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তার  হিসাব নম্বর ০২-৩৩৪-৪০১৮। গত ২৯ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরের বিদ্যুৎ মিটার খুলে নেয়া হয়। আগের সব বিলে সার্ভিস চার্জসহ কোন বকেয়া না থাকলেও তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ফাঁদ পাতা হয়। জানুয়ারি মাসের বিলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৩৫৮ টাকা ও বকেয়া ৯৭৬ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি সমাধানে  জাহাঙ্গীরসহ এলাকাবাসী দফায় দফায় অনুরোধ জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম ও নবাবপবিসের জিএম বরাবর। তাতে কাজ হয়নি।
    জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে বলেন, 'বিলের সমাধান না করে ডিজিএম ঘুষের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কোন অপরাধ না করলেও তারা মিটার খুলে নিয়েছে। এখন মিটার সংযোজন না করার পাশাপাশি হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ ঘুষের ৮০ হাজার টাকা না দিলে ১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ জেলের হুমকি দেন ডিজিএম।' এ পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

    পারকালুপুর গ্রামের একজন গ্রাহক সানাউল্লাহ কোন অপরাধ না করলেও ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে তার মিটার খুলে নেয়া হয়। জরুরি সেচ কাজে ব্যবহার করা মিটারের সংযোগ চাইতে গেলে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। একমাস পর ৩০ হাজার টাকা জমা দিলে ৪ হাজার টাকার রশিদ দেয়া হয়। বিলের কপিতে হাতে লিখে অন্যান্য খাতে ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়। বিল কপি প্রদানের সময় আরো ১৫/১৬ হাজার টাকা দেয়ার অঙ্গিকার করতে হয়। এরপর ফেব্রুয়ারী মাসের ১২ তারিখে মিটার সংযোগ দেয়া হয় বলে জানান সানাউল্লাহর ছেলে জাকির হোসেন। দুই কাঠা জমি বিক্রি করে ঘুষের টাকা দিতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সেচের মিটার না পেলে জমির আবাদ শেষ হয়ে যেত বলে তিনি জানান।

    বিস্তর অভিযোগের মুখে ডিজিএম প্রকৌশলী মো. গোলাম মর্তুজা বলেন, 'জাহাঙ্গীরের কাছে ঘুষ বাবদ ৮০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। কোনও অনিয়ম, দুর্নীতিতে আমি জড়িত নই। অফিসকে দালালমুক্ত করাসহ আমার কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা আছে। তদন্ত করলেই অভিযোগ অসত্য বলে প্রমান হবে।'
    প্রায় এক হাজার সংযোগের আবেদন পড়ে থাকলে মিটার বরাদ্দ হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নে গোলাম মর্তুজা বলেন,' গত দুই মাসে ৫৮০ জন নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন। মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন পেলে তাদের সংযোগ প্রদান করা হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৯২ জন গ্রাহকের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা ৯৮ হাজার ১৫৮ জন।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad