Header Ads

  • সংবাদ শিরোনাম

    এগারগ্রাম পূর্ববাজারে রাতের আধারে সরকারী জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে স্থানীয় ভূমিদস্যু সংকর গং।


    বিশেষ প্রতিনিধি।

    কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলাস্থ এগারগ্রাম বাজারের পূর্বপার্শ্বে রতন শীল(সংখ্যালঘু) এর বাড়ী সংলগ্ন সরকারী পরিত্যক্ত ভূমিটিতে সকল বাধা উপেক্ষা করে রাতের আধারে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে স্থানীয় ভূমিদস্যু সংকর গং। ২৬/০৩/২০২০ শুক্রবার রাত তিনটায় গঠনাটি ঘটে।

    খুজ নিয়ে জানা যায় মুগসাইর মৌজায়, দাগ নং- ২৩২২, এর জায়গাটির ১৩ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ সরকারী পরিত্যক্ত সম্পত্তি, কারো ব্যক্তি মালিকানা নয়। পূর্বকাল থেকে এই পরিত্যক্ত জায়গাটি এগারগ্রাম বাজার এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ির পানি নিষ্কাশন নালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বাজারে জমির মূল্য অত্যাধিক হওয়ায় ২০১৮ সালের মাঝা মাঝি সময়ে নালাটি স্থানিয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের নজরে পরে। এবং ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ভূমিদস্যুরা বাজারের পরিত্যক্ত পানি সরবরাহ নালাটি ড্রেজারের মাধ্যমে ভরাট শুরু করলে পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিক সংখ্যালঘু "রতন চন্দ্র শীল" বিষয়টি স্থানিয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে জানালে তাহারা ভরাট কাজ বন্ধ রাখার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু ভূমি দস্যুরা তাহাদের কথা অমান্য করিয়া নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে উক্ত নালাটি ভরাট প্রকৃয়া চলমান রাখে। পরে সংখ্যলঘু রতন শীল নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নিকট নালাটি ভরাট বন্ধ করতে লিখিত অনুরুধ জানায়। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবীন্দ্র চাকমা'র নির্দেশে ভরাট কাজ বন্ধ করে।

    আরও জানা যায়, ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে উক্ত পরিত্যক্ত ভূমি/পানি নিষ্কাশন নালাটি দখল করে দোকান ঘর নির্মানের জন্য পুনরায় পায়তারা শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে সংখ্যালঘু রতন শীলের স্ত্রী রিনা রানী রায় গত ৩১/১২/২০১৯ইং তারিখে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ভূমিদস্যু সংকর সূত্রধর এর বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে সরকারী পরিত্যক্ত ভূমি দখল এর অভিযোগ করে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দ্বায়িত্ব ভার অর্পন করেন। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নরেন্দ্র দেবনাথ উপজেলা সার্ভেয়ার নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন।

    ইউসুফপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নরেন্দ্র দেবনাথ এর সাথে আলাপ করে জানা যায় উক্ত দাগে'র (১৩) তেরো শতাংশ ভূমির মধ্যে (৬) ছয় শতাংশ ভূমি পার্শ্ববর্তী সংকর গং এর, এবং বাকী (৭) সাত শতাংশ ভূমির মালিকানার কোন কাগজ পত্র কেউ উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি জানান রাস্তার পার্শ্বের এই জায়গাটির কেউ কোন মালিকানার কাগজ পত্র উপস্থাপন করতে পারেনি বিধায় জায়গাটি সরকারী পরিত্যক্ত সম্পত্তির আওতায় পরে। এই জায়গাটি যেনো কেউ ব্যক্তিগত ভাবে দখল করতে না পারে এ বিষয়ে স্থানিয় মেম্বার এবং গ্রাম পুলিশকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান জায়গাটি সরকারী তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মহোদয়ার সাথে পরামর্শ করছি।

    এরই মধ্যে উক্ত ভূমি জোরপূর্বক দখল করে দোকান ঘর তোলার জন্য তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখে এবং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটায়(০৬/০৩/২০২০) শুক্রবার রাতের আধারে ভূমিদস্যু সংকর গং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে মোটা অঙ্কের টাকায় ম্যানেজ করে এবং সকল বাধা উপেক্ষা করে উক্ত জায়গাটিতে দোকান ঘর নির্মাণ করছে।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad