Header Ads

  • সংবাদ শিরোনাম

    ময়মনসিংহে গৃহবধূকে আগুন লাগিয়ে হত্যা চেষ্টা ।


    গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ জেলা সংবাদদাতা /

    ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পুঙ্গুওয়াই গ্রামে স্বামীর বাড়িতে মোছাঃ শিরীন আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য নির্যাতিতা মহিলার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া যায়। খুঁজ নিয়ে জানা যায়  গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য ঘুমন্ত অবস্থায় মহিলার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা চেষ্টা করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ২১.০৩.২০২০ ইং রবিবার বিকেলে নির্যাতিতা মোছাঃ শিরীন আক্তার (২৫) এর স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও  শরীরের শ্বাসনালীসহ প্রায় ৭৫ ভাগ পুড়ে গেছে। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিট চিকিৎসাধীন মোছাঃ শিরীন আক্তার (২৫) নামে গৃহবধূ জীবনমৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। এ ঘটনায় মোছাঃ শিরীন আক্তার বাবা ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মোছাঃ শিরীন আক্তারের শাশুড়ি মোছাঃ ফুলে বেগম (৫০) ও ননদী মোছাঃ শিউলি বেগমকে গ্রেপ্তার করে। অভিযু্ক্ত নির্যাতিতা মোছাঃ শিরীন আক্তারের স্বামী সোহেল মিয়া পলাতক রয়েছে।গৃহবধূ মোছাঃ শিরীন আক্তারের পরিবার ও তারাকান্দা থানা সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পুঙ্গুওয়াই গ্রামের মোঃ সিরাজ আলীর মেয়ে মোছাঃ শিরীন আক্তার (২৫) এর প্রায় ৩ বছর আগে বিয়ে হয় একই এলাকার মোঃ সোহেল মিয়ার সাথে। স্ত্রী মোছাঃ শিরীন আক্তারকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই নির্যাতন করতো। গৃহবধূ মোছাঃ শিরীন আক্তারের বাবা মোঃ সিরাজ আলী জানান, মেয়ের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে স্বামী মোঃ সোহেল মিয়া। আমি  দরিদ্র বাবার পক্ষে মোটা অংকের টাকা যৌতুক দিতে না পারায় স্বামী মোঃ সোহেলসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন  চালাতো আমার মেয়ের ওপর অমানুসিক নির্যাতন। করতো অনেক মারধর। জানা যায়, গতকাল রবিবার বিকেলে ঘুমন্ত অবস্থায় তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন। গৃহবধূ মোছাঃ শিরীন আক্তারের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে স্বামী মোঃ সোহেল মিয়া পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মমেকের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিক্যালে পাঠান। 

    ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মোঃ মশিউর রহমান রিপন জানান, যৌতুকের জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। গৃহবধূ মোছাঃ শিরীন আক্তারের প্রায় ৭৫ শতাংশ শরীর পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ব্যাপারে তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের  জানান, এ ঘটনায় মামলা করেছেন গৃহবধূ মোছাঃ শিরীন আক্তারের বাবা মোঃ সিরাজ আলী। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ মোছাঃ শিরীন আক্তারের শাশুড়ি ও ননদী মোছাঃ শিউলি বেগমকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত গৃহবধূ মোছাঃ শিরীন আক্তারের স্বামী মোঃ সোহেলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad