Header Ads

  • সংবাদ শিরোনাম

    দেবীদ্বারে কোন ভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা, ভ্রাম্যমান আদালতের সংবাদে ৮০টাকার পেঁয়াজ ৫০টাকা ।


    এবিএম আতিকুর রহমান বাশার /

    নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালত সার্বক্ষনিক তদারকীতে থাকলেও কোনভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছেনা।  ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান যতক্ষণ থাকে ততক্ষনই ২হাজার ৮শত টাকায় ৫০ কেজি চাউলের বস্তা ২হাজার ৬৫০ টাকা থেকে ২হাজার ৭শত টাকা এবং কেজি প্রতি ৮০ টাকার পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। ভ্রাম্যমান আদালত স্থান ত্যাগ করে অন্য বাজারে যাওয়ার পর পূর্বের অবস্থানে চলে আসে।

    দেবীদ্বার নিউমার্কেটের চাউল ব্যবসায়ী সরকার ট্রেডার্স’র স্বত্বাধিকার মোঃ খলিলুর রহমান জানান, অতিরিক্ত দামে চাউল বিক্রয় করার অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার শাহিদা আক্তার আমার দোকানে আসেন। মূল জায়গায় ২হাজার ৪৪০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চাউল ট্রান্সপোর্ট এবং ল্যাবার খরচ সহ প্রায় ২হাজার ৫৭০ টাকা থেকে ২হাজার ৬শত টাকা খরচ পরে, আমরা প্রতি বস্তায় ১শত টাকা লাভ না করতে পারলে ব্যবসা করব কেন। এসময় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফোন নম্বর নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার ‘মেসার্স খান এগ্রোফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ’-এ যোগাযোগ করলে তারা জানান, মিনিকেট চাউল ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চাউল আজকের বাজারে ২হাজার ৮শত টাকা। যে চাউলটি গত ২২মার্চ আমরা পাইকারী বিক্রি করেছি ২হাজার ৪৪০টাকা। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তখন গ্রাহকের নিকট ১ বস্তা চাউলের উপর বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়ে চলে যান। 
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ি জানান, পেঁয়াজের বাজার সব সময়ই অনিয়ন্ত্রীত। গত ৪দিন পূর্বে ৪০টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হলেও গত ৪দিন ধরে ৮০/৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কাষ্টমারদের মধ্যে মহিলা কাষ্টমার আসে বেশী, এরা অধিকাংশই প্রবাসীদের স্ত্রী। আরো দাম বাড়ার আতঙ্কে তারা অতিরিক্ত পেঁয়াজ সহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনে রাখছে। ভ্রাম্যমান আদালত আসার সংবাদে ৫০টাকায় বিক্রি করায় সবাই এ সুযোগ টা কাজে লাগাতে অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনে নেয় ক্রেতারা। এসময় ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট অতিরিক্ত পেঁয়াজ কেনার কারন জিজ্ঞেস করলে ওরা কোন জবাব না দিয়েই চলে যায়।
    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদা আক্তার বলেন, সাংবাদিকদের লেখা লেখি এবং সেলফোনে ভোক্তাদের অভিযোগের সত্যতা বাজারে আসলে অভিযোগের মিল খুঁজে পাচ্ছিনা। নগদ ক্রেতাদের পক্ষ থেকেও কোন অভিযোগ পাচ্ছিনা। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, বাজারে যে পরিমান লোকজনের সমাগম দেখতে পাই সেপরিমান সমাগম আর কোথাও দেখিনা। ক্রেতাদের দেখা যায় ১০/১২ বস্তা চাউল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ৫/১০ কেজি পেয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতো বেশী করে চাউল, পেঁয়াজ কিনে নেয়ার বিষয়ে কারন জানতে চাইলে ক্রেতাদের কাছ থেকেও কোন সদোত্তর পাচ্ছিনা।
     
    তিনি জানান, দেবীদ্বারে বড় কোন আরত নেই। এখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ, বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার থেকে পেঁয়াজ সহ বিভিন্ন কাঁচা সামগ্রী এবং কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের আরত থেকে চাউল কিনে আনছেন। বিক্রেতাদের ক্রয় রসিদ দেখেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। গলদ রয়েছে মূল গোড়ায়। মূল আরতদারদের নিয়ন্ত্রণ না করলে স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এছাড়া ব্যবসায়ীরা নিজ চেতনা থেকে মানবিক না হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।  
    এবিএম আতিকুর রহমান বাশার,
    ০১৮১৯৮৪৪১৮২,
    ২২/০৩/২০২০ইং।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad