চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গণপরিবহন এড়িয়ে চলার অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সকল বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যানবাহন বন্ধের এই ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরেই রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ সকল দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এঘটনায় বিভিন্ন কাজে রাজশাহীতে থাকা মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয় এবং হুড়োহুড়ি করে যে যেভাবে পারছেন বাড়ি ফিরছেন বলেও জানা গেছে। গ্রামীণ ট্রাভেলস্ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিকিট কাউন্টারে বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঢাকাসহ সকল দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের বিষয়টি।
এব্যাপারে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাড. লুৎফর রহমান ফিরোজ জানান, রাজশাহী থেকে দুপুরেই ঢাকাসহ সকল দূরপাল্লার বাস চলাচল রাত থেকে বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জেও এর প্রভাব পড়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঢাকা বাস কাউন্টারগুলো টিকিট ফেরত দিয়ে দেয় এবং কিছু গাড়ি ফেরত যাচ্ছে ঢাকায়। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, বাস মালিক সমিতি বা শ্রমিক ইউনিয়ন এই যান চলাচল বন্ধের কোন আদেশ দেন নি। ঢাকা বাসের মালিকরাই নিজ দায়িত্বে ঢাকাসহ সকল দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কায় রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে সব বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ সিদ্ধান্তে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সব বাস বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে রাজশাহী বিভাগের অভ্যন্তরীন রুটে সিমিত আকারে বাস চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
রাজশাহী বাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে ইতোমধ্যেই মানুষের চলাচল কমে গেছে। এতে বাসে যাত্রী কম হচ্ছে। যাতে তেলের টাকা উঠছে না। এছাড়াও বাসের যাত্রীদের মাধ্যমে কারোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। এ দুইটি বিষয় বিবেচনা করে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে পরবর্তি সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত আন্ত:নগর রুটে সিমিত বাস চলাচল করবে বলেও জানান তিনি।
বাস মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়ে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব আলী চৌধুরী বলেন, রাজশাহীকে করোনাভাইরাস মুক্ত রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বাস বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার অনুরোধ করা হয়। এছাড়াও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় শ্রমিকরাও বাসে কাজ করছে চাইছেন না। এ কারণে ঢাকার সঙ্গে বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে; যাতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কেউ রাজশাহীতে আসতে না পারে।
অপরদিকে , করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) রাজশাহী সার্কেলের লাইসেন্স সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের লাইসেন্স সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সদর কার্যালয় ঢাকার নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিন নতুন করে আক্রান্ত তিনজনই একই পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। আক্রান্ত ওই নারীর বয়স ২২ বছর। পুরুষ দুইজনের বয়স যথাক্রমে ৬৫ ও ৩২ বছর। আক্রান্তদের পরিবারের একজন ইতালি ফেরত।
এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা একজনই। করোনা ভাইরাস নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) খোলা হটলাইনে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৮ জন সেবা নিয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। এরমধ্যে ৮ হাজার ৯৭০ জন মারা গেছেন এবং সুস্থ হয়েছেন ৮৫ হাজার ৭৪৯ জন। এর আগে বুধবার পর্যন্ত দেশে ১৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আইইডিসিআর।


কোন মন্তব্য নেই