মহামারি করোনা সংকটের মধ্যেও কাজের সন্ধানে ছুটছেন বাঘার কৃষিশ্রমিক
সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ
মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের আর্থিক অবস্থা সম্কে গেছে।কৃষক শ্রমিকদেন অবস্থা সংকটে পরেছে।সেই দিক বিবেচনা করে শ্রমিকদের ধান কাটতে যাওয়ার অনুমতিপত্র দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান —ইত্তেফাক
মরণব্যাধী করোনার থাবায় তছনছ দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসাবাণিজ্য। সরকার ঘোষিত ছুটিতে স্থবির সারাদেশ। থমকে আছে প্রায় সব কিছু। আমদানি-রপ্তানি বলতে গেলে অচল। প্রশাসনের বাধার মুখে ঘরের বাইরে যেতে পারছে না অনেকে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তারা পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজের সন্ধানে ছুটছে এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে। গত তিন দিনে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী বাঘা উপজেলা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেছেন প্রায় ২ হাজার কৃষি শ্রমিক। এরা অধিকাংশই উপজেলার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী পাকুড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি কর্মকর্তার অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নাটোর, সিংড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও আত্রাইয়ের গ্রামে গ্রামে বর্তমানে বোরো ধান পাকা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হবে। বর্তমানে এ অঞ্চলে তেমন কোনো কাজ না থাকায় বেকার অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন এলাকার শ্রমিকরা। বিশেষ করে মরণব্যাধী করোনার কারণে এখন পুরোপুরি লকডাউন (ঘরে বসে) সময় পার করছে তারা। এদের অনেকে যতসামান্য সরকারি সহায়তা হিসেবে ত্রাণের চাল পেয়েছে। কিন্তু তাতে তো আর সংসার চলবে না। তাই পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য তারা ছুটতে শুরু করেছে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, দেশের সব অঞ্চলে সব ফসল হয় না। কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এদিক থেকে রাজশাহীর বাঘা আমের জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলে আগামী এক দেড় মাস পর আম পাকা শুরু হবে। তখন বাইরে থাকা সব শ্রমিক নিজ এলাকায় ফিরে আসবে। তিনি আরো বলেন, সরকার কৃষি কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। কারণ, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সে লক্ষ্যে বাঘার হাজার হাজার শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিকট হতে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আমার কাছে এসেছে। এরপর আমার সুপারিশ নিয়ে তারা ধান কাটার কাজে পর্যায়ক্রমে এলাকার বাইরে চলে যাচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই