খুলনার কয়রায় টিসিবির পণ্য বিক্রি: মানছেনা সামাজিক দূরত্ব, বাড়ছে করোনা ঝুঁকি।
অমিত কুমার ঢালী, কয়রা প্রতিনিধি :- পুরো বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কিত, তখন কয়রা সদরের দেউলিয়া বাজারে শত শত মানুষ ভিড় নেই লাইন কেউবা কারও গাঁয়ে সাথে গা মিসে গাদা গাদি করে লাইনের তোয়াক্কা না করে টিসিবির পণ্য কিনছেন এলাকাবাসী। সোস্যাল ডিসট্যান্সের তোয়াক্কা তারা করছেনই না। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়েছেন অনেক মানুষ। রোজগার নেই। সঞ্চয়ে টান পড়েছে। তাই কম খরচে পণ্য কিনতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকের সামনে বাড়ছে ভিড়। এ সময় সামাজিক দূরত্ব না মানায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।এতে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
টিসিবির ট্রাকের সামনে ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না।
২০ এপ্রিল সন্ধায় কয়রা সদরের দেউলিয়া বাজারে টিসিবির গাড়ির সামনে দেখা যায়, ক্রেতাদের মধ্যে পণ্য কেনার প্রতিযোগিতার কারণে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে বেশি।নেই কোন নিদিষ্ট লাইন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ফলেও ঘটছে ধৈর্যচ্যুতি। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো । কার আগে কে কিনবেন তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে।
করোনা ভাইরাসের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ক্রেতারা বলেন, তারা এ বিষয়ে অবগত। কিন্তু পণ্য কিনতে হবে। তাই নিরুপায় হয়েই নাকি তারা তাড়াহুড়ো ও ধাক্কাধাক্কি করছেন!
টিসিবির পণ্য কিনতে আসা খয়রুল বলেন, আমি সবাইকে সরে দাঁড়াতে বলছি। কিন্তু কেউ সরে দাঁড়াচ্ছে না। গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আরেক ক্রেতা মোকাররম বিল্লাহ বলেন, আমরা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানি। কিন্তু পণ্য তো কিনতে হবে। আমি নিজে সচেতন হলেও অন্যরা তো সচেতন হচ্ছে না!
এ সময় টহলরত পুলিশ সদস্যরা ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলে যাওয়ার পর আবার বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। একপর্যায়ে টিসিবির পণ্য বিক্রেতা তাদের লাইনে দাঁড়াতে বললেও ক্রেতারা কর্ণপাত করেননি। এ অবস্থা কিছুক্ষণ চলার পর পুলিশ সদস্যরা এসে বারবার তাগাদা দেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। তবে, কে শোনে কার কথা। অনেককে টিপ্পনী কাটতেও দেখা যায়।
ফরহাদ নামে টিসিবির এক বিক্রেতা বলেন, বার বার তাদের দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে বলি। তারা আমাদের কথায় পাত্তাই দেন না। একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে দাঁড়ান। আমরা আর কী করতে পারি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুজিত বালা বলেন, ‘কোভিড-১৯ প্রতিরোধের যে কয়েকটি ধাপ রয়েছে, তার অন্যতম সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞ দের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে ৬০ ভাগেরও বেশি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। করোনা একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষে ৩ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত দূরত্বে ছড়াতে পারে। তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।’
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বাজারে যেভাবে ভিড়ের কারণে সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘিত হয়, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। শুধু বাজার নয়, যেকোনো জনসমাগমস্থলে বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই আমাদের নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।’
কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাল বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছিল। বিষয়টি আরো কঠোর তদারকির ব্যবস্থা করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই