দেবিদ্বারে ইউপি ভবনে যুবককে মারধর প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি
ফলোআপ.....
সাইফুল ইসলাম সজিব, দেবিদ্বার /
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশেকে এলাহী নামের এক যুবককে চেয়ারম্যান কর্তৃক ডেকে এনে মারধরের যে ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়নি। মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য জানান, দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাকিব হাসান।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরায় সংবাদ সম্মেলনে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম খাঁন একই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই ভিডিওতে আশেকে এলাহীকে মারধরের কোন দৃশ্যও ছিল না। কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম অভিযোগ করেন, স্থানীয় আশেকে এলাহী নিজ বাড়ি থেকে ৭৯ জনের ত্রাণের তালিকা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সে ইউপি পরিষদ, সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলো। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গত ১১ এপ্রিল তাকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনা হয়। এসময় তাকে আমি মারধর করা হয়নি। তার নিকট আত্মীয়রাই তাকে শাষণ করে পরিষদ থেকে বাড়ি নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুল তথ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি অপপ্রচার চালায় প্রতিপক্ষ একটি চক্র। তিনি আরও জানান, গত ১৪ এপ্রিল আশেকে এলাহী বিতর্কে এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা এলাকায় গেলে স্থানীয় প্রতিপক্ষ গ্রæপের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইন্ধনে ভাড়াটে লোক জড়ো করে এনে তাদের শক্তির সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। আশেকে এলাহী নিজেও ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তদন্ত কমিটি পরিষদে যাওয়ার আগেই সেখানে হাজার হাজার লোক অন্যত্র থেকে গাড়ি ভাড়া করে আনা হয়। এদের কেউ কেউ ছিল মুখোশ পড়া। এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যদের পুলিশ পাঠিয়ে উদ্ধার করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিষদে না যাওয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, দেশে করোনার এই সংকটময় সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল আমাদেরকে এলাকায় অবস্থান করার নির্দেশনা দিয়েছেন, কিন্তু ওই পরিষদে গেলে প্রতিপক্ষরা আমাকে যে কোন সময় প্রাণনাশ করতে পারে এমন হুমকীর কারণে বর্তমানে অফিসে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, দুইবার ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে এ যাবৎ ত্রাণ কিংবা সরকারি অনুদান আত্মসাৎ কিংবা বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি। কেউ অনিয়মের প্রমাণ করতে পারলে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। করোনা মোকাবেলা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে কেউ দাফন করতে না আসলে তিনি নিজেই দাফনের ব্যবস্থা করবেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সদস্য হুমায়ুন কবির সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, কবির হোসেন খন্দকার, শাহাদৎ হোসেন, মোকবল হোসেন, কামাল উদ্দিন,জাকির হোসেন, আবু তাহের সরকার, মঈনুল হক মুন্না, মহিলা সদস্য মিনুয়ারা বেগম, মঞ্জুয়ারা বেগম ও তাছলিমা বেগম।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে তদন্ত কমটির রিপোর্ট প্রসঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাকিব হাসান বলেন, ওই যুবক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মারধরের যে অভিযোগ করেছিল তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়াও পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে অভিযোগকারী যুবককে মারধরের বিষয়টিও তদন্তে প্রমানিত হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্যরা তদন্তে ওই পরিষদে গেলে বহিরাগত লোকজন কর্তৃক তদন্তে বাঁধাগ্রস্থ হওয়াসহ তাদের সাথে অশালীন আচরণের বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। ইউএনও আরও বলেন, সরকারি ত্রাণ কিংবা খাদ্য সহায়তা বিতরণে এ পর্যন্ত তদন্তে ওই ইউনিয়নে কোন অনিয়মের অভিযোগ প্রমানিত হয়নি।


কোন মন্তব্য নেই