Header Ads

  • সংবাদ শিরোনাম

    মামলা না নেওয়ায় রুপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ ধর্ষিতার পরিবারের


    ভোরেরকুমিল্লা ডেস্ক / 
    নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এদিকে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ধর্ষকের পরিবারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে ধর্ষনের আলামত নষ্ট করার জন্য পাঁচ দিন ধরে ঘুরাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভুগির পরিবারের। একই সাথে ধর্ষক ইব্রাহিম মিয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী হুমকিও দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই ধর্ষকদের হামলা থেকে বাচঁতে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবে কাফনের কাপড় পড়ে আশ্রয় চাইল ধর্ষিতার পরিবার। এসময় তারা প্রেসক্লাব চত্তরে শুয়ে অবস্থান নেন।

    শুক্রবার দুপুরে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ের সামনে ধর্ষিতার পরিবার কাফনের কাপড় পড়ে শুয়ে অবস্থান নিয়ে সুষ্ঠ বিচার ও জীবনের নিরাপত্তার দাবী করেন। বর্তমানে ধর্ষক ও তার পরিবারের হুমকি ধামকির কারণে ধর্ষিতা ও তার পরিবার গ্রাম ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।অভিযুক্ত ধর্ষক ইব্রাহিম ওই এলাকার কবির হোসেনের ছেলে।

    ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী কাঞ্চন পৌরসভার রানীপুরা এলাকার একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত দেড়বছর আগে উপজেলার দক্ষিণ কেরাব এলাকার কবির হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম মিয়া বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত ১ বছর ধরে লম্পট ইব্রাহিম মিয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত শারীরিক সম্পর্ক করতো। গত বেশ কিছুদিন ধরে শিক্ষার্থী তাকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ইব্রাহিম মিয়া বিভিন্ন টালবাহানা দেখায়। পরে ওই শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে সে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করতে থাকে।

    গেল ১৯শে এপ্রিল রাতে ইব্রাহিম মিয়া ভয় দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ির পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে ইব্রাহিম মিয়া তার দুই বন্ধুর সহযোগীতায় তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে ফেলে রেখে চলে যায়। ওইদিন রাতে ধর্ষিতার পরিবারের লোকজন বিষয়টি ধর্ষক ইব্রাহিম ও তার বাবা কবির হোসেন এবং মা লিপি বেগমকে জানায়। পরে তারা ধর্ষিতার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

    এ ঘটনায় গত ২০ এপ্রিল ধর্ষিতা নিজে বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় লম্পট ইব্রাহিম মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ধর্ষক ইব্রাহিম ও তার বাবা কবির হোসেনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ ধর্ষিতার পরিবারের। ধর্ষক ইব্রাহিম ও তার বাবা কবির হোসেন তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের লোকজনকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছে।

    বর্তমানে ধর্ষক ও তার প্রভাবশালী পিতার হুমকির মুখে গ্রাম ছাড়া ধর্ষিতা ও তার পরিবার। শুক্রবার সকালে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ের সামনে ধর্ষিতার ও তার পরিবার কাফনের কাপড় পরে ধর্ষণের বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অবস্থান নেয়।

    ধর্ষীতার চাচা আল- আমিন জানান, রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচীর পর বাড়িতে যাওয়ার সময় তাদেরকে আর কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। ধর্ষীতার চাচা এমন শঙ্কা করছেন, ধর্ষনকারীর পিতা কবির হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন তাদের হত্যা করার উদ্দ্যেশ্যে অপহরন করে নিয়ে যায়।

    এ ব্যপারে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় আজ দুপুরে মামলা হয়েছে।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad