সুবিল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ভাইয়ের চাল চুরির অভিযোগে ডিলারশিপ বাতিল ও মেম্বার আটক ।
এম,এ,কে আজাদ /
গরিবের চাল আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের বড় ভাই আবদুল কুদ্দুস সরকারের ওএমএসের ডিলারশিপ বাতিল করেছে প্রশাসন। একইসঙ্গে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পলিশ । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুবিল ইউনিয়নে ওএমএস’র চাল বিক্রয় করা হচ্ছে কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা চাল পাচ্ছেন না ।
এবিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে জানালে তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার কবিরাজকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার কবিরাজ’র নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি টিম বৃহস্পতি ও শুক্রবার তদন্তে যান। সরেজমিনে স্থানীয়দের যত জনের সাথে কথা বলেছেন তারা কেউ ১০টাকা কেজি দরে চাউল পাননি বলে জানান ।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তদন্ত টিম প্রধান উত্তম কুমার কবিরাজ জানান, এলাকায় তদন্তে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে মনে হল ওএমএস’র চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে ওই ইউনিয়নরে কেউই অবগত নন । প্রতি ইউনিয়নে উপকারভোগী ৫০০ জন ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এ ইউনিয়নের কেউ তা জানেনই না। এমনকি এ কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী ৫০০ জনের একটি কার্ডও গ্রাহকের কাছে পৌঁছেনি। কার্ডধারীরাও জানেনা ওরা ওএমএস তালিকাভুক্ত আছেন ।
তিনি আরোও জানান, সুবিল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান মোল্লাকে আটক করে ওএমএস’র কার্ডগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছেনি কেন জানতে চাইলে মেম্বার আব্দুল মান্নান ওই কার্ড সম্পর্কে কিছুই জানেনা বলে জানান। প্রমাণ করার জন্য তাকে নিয়ে ওএমএস ডিলারের বাড়িতে গেলে সে পালিয়ে যায়। পরে মেম্বারকে থানা পুলিশের হেফাজতে রেখে আসি। ওই কর্মসূচির আওতায় পূর্বেও কাউকে চাল দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার বলেন, এক মেম্বার যাদের কার্ড তাদের চাল না দিয়ে বেশি অভাবীদের দিয়ে দিয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এখানে মেম্বার ও ডিলারের বিষয়, আমি কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত নই ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। উপকারভোগীদের কার্ডগুলো কোথায় এবং কার কাছে সেগুলো উদ্ধার করে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবো । যাতে চলমান বিতরণকৃত চাল থেকে তারা বঞ্চিত না হন ।
অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরও গ্রাহকদের কাছে কার্ড পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। এখন শুনছি তারাও কার্ডগুলো বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন। গরিবের চাল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন তাই করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই