বরিশালে করোনা আতঙ্কের মধ্যেও ঘরের বাইরে মানুষের ভিড়
শাহিন হাওলাদার // বরিশাল জেলা প্রতিনিধি //
কোভিড-১৯। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মানুষকে ঘরে রাখতে প্রচার প্রচারণা থেকে শুরু করে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের সেই পরামর্শ বা সরকারের নির্দেশনা মানছে না অনেকেই। বিভিন্ন অজুহাতে বাইরে বের হয়ে আড্ডা দিচ্ছেন কেউ কেউ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে বিশ্বব্যাপী মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশেও সবাই ভীত এই সংক্রামক রোগ নিয়ে। করোনা থেকে বাচতে সচেতনতা অবলম্বন করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার কথা বলা হচ্ছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।
বরিশাল ঘুরে দেখা গেছে, কিছুদিন আগের তুলনায় রোববার, সোমবার, রাস্তাঘাটে জনসাধারণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। কেউ আড্ডা দিচ্ছেন চায়ের দোকানে। আবার কেউ ফাকা রাস্তায় ঘুরছেন। গত কয়েকদিন টানা বাড়িতে অবস্থান করে হাপিয়ে উঠেছেন কেউ কেউ; তাই বের হয়েছেন রাস্তায়। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া কিংবা কর্মজীবী মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।
সদর রোড, কাকলীর মোড়, বগুরা রোড, বেশ কয়েক জনের সাথে কথা হয়। তারা বলেন, বেশ কয়েকদিন বাসা থেকে বের হইনি। কিন্তু কতক্ষণ বাসায় থাকা যায়! তাই একটু হাটাহাটি করতে বাসার নিচে নামলাম।আবার অনেকে বলেন বাজার করতে বের হলাম এরকম কথা বলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেরায়।
পোর্ট রোড এলাকায় খোলা রয়েছে কাঁচাবাজায় এবং নিত্য পণ্যের দোকান। সেখানেও ক্রেতার সংখ্যা নেহাত কম নয়। আব্দুল হাসান এসেছেন নিত্যপণ্য কিনতে। তিনি বলেন, পাঁচদিন আগে বাজার করেছিলাম, সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। তাই সওদা করতে আসলাম। এই পরিস্থিতিতে বের হতে ইচ্ছা না করলেও বাধ্য হয়েই বের হয়েছি।
বরিশালে একটি অস্থায়ী চায়ের দোকানের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন রিকশাচালক পাশাপাশি এলাকার কিছু ছেলে চায়ের দোকানে বেপরোয়া ভাবে আড্ডা দিচ্ছে পুলিশ দেখলেই পালিয়ে বেরায়।চায়ের দোকানে রিকশাচালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ তাদের আয় বেশি হয়েছে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ থাকায় তাদের যাত্রীর সংখ্যাও বেশি বলে দাবি করেছেন তারা।
রুপাতলি এলাকায়ও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ পরিস্থিতি কেমন সেটা পর্যবেক্ষণ করতে বের হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।কেরানী বাড়ি পোলের সাজ্জাদ জানান, বাইরের বাতাস না নিলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এ কারণে একটু হাটাচলা করছি।


কোন মন্তব্য নেই